
মিডিয়াম থেকে হাই প্রাইছ লেভেলে অনেক নতুন ভালো ভালো অপশন দেশের বাজারে পাওয়া গেলেও ,যারা একদম লো বাজেটে(৩০-৪০ হাজার) একটা এমএস অফিস বা টুকটাক ব্রাউজিং, হোম ওয়ার্ক ইত্যাদি লাইট ইউজের জন্য ল্যাপটপ খোজেন তাদের জন্য মার্কেটে অপশন গুলো খুব একটা সুবিধাজনক নয়। তাই বর্তমানে সেকেন্ড হ্যান্ড বা Refurbished laptop অনেক মডেলই দেশের বাজারে দেখা যাচ্ছে যেমন, এলিটবুক,X1 carbon, ডেল XPS ইত্যাদি। এগুলো বিক্রিও হচ্ছে ভালো এমাউন্ট এর ইউনিট। আজকে আমরা কথা রিভিউ করবো এমনই একটা Refurbished laptop; HP Elitebook 840 G6 এবং একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো যে আসলেই একসময়ের লাখ টাকার এই ল্যাপটপ গুলো এখন এত বছর পরেও ব্যাবহারের উপযোগী কি না? এবং নতুনের থেকে এইটা কেনাই বুদ্ধিমান বা মতির কাজ হবে কি ?
দাম ও কম্পেটিশনঃ
প্রথমেই আসা যাক এর বর্তমান বাজার মূল্য তে। HP EliteBook 840 G6 ; 256/8 ; 14″ এর বর্তমান বাজার মূল্য ৳34,500 যদিও ল্যাপটপ টির নতুন লঞ্চের সময় ২০১৯ সালে দাম ছিলো লাখ টাকার ওপরে। এইরকম একই দামের কাছাকাছি refurbished মডেল গুলো হলোঃ
নতুন এর ভেতর এভেইলেবল মডেল গুলো হলোঃ
- Asus Vivobook E410MA 14 inch – ৩৭,৮০০ টাকা
- ASUS X415KA INTEL CDC N4500 14.0 INCH – ৩৭,৮০০ টাকা
- LENOVO IDEAPAD SLIM 3I CELERON N4020 – ৩৪,৫০০ টাকা
- Chuwi Gemibook Plus Intel Celeron N100 8GB DDR5 RAM – ৩৫,০০০ টাকা
- Lenovo IdeaPad 1 15AMN7 Athlon Silver 7120U 15.6-Inch – ৩৯,৯০০ টাকা
Refurbished laptop or 2nd hand মডেল গুলো হলো:
- Microsoft Surface Laptop 2 – 13.5″ | Core i5-8350U | 128/8 | 13.5″ (2256×1504) Touch = 34,999 টাকা
- ASUS VivoBook Flip 14 TP412UA | Core i5-8250U | 256/8 | 14″ (1920×1200) X360 = ৳37,999 টাকা
- Dell Latitude 5310 | Core i5-10310U | 512/8 | 13.3″ (1920×1080) Touch = ৳37,999 টাকা
- Dell XPS 13 9360 | Core i5-7300U | 256/8 | 13.3″ (3200×1800) Glass Touch = ৳36,999 টাকা
- Lenovo Thinkpad X1 Carbon – Gen 7 | Core i5-8265U | 512/8 | 14″ (1920×1080) = ৳36,999টাকা
- HP EliteBook 845 G7 | Ryzen 5 Pro-4650U | 256/16 | 14″ (1920×1080) = ৳38,999 টাকা
Build Quality & Display.
বিল্ডের কথা বললে এলিটবুক সম্পূর্ণ মেটাল বিল্ড,যা এই বাজেটের নতুন ল্যাপ্টপে পাওয়া অসম্ভব। এলিটবুক 840 G6 এর বডিতে ফ্লেক্স একদম কম। এর নিচের দিকে একটা ইন্টেক ভেন্ট রয়েছে বড়। বাম সাইডে এক্সস্ট ভেন্ট রয়েছে। যেহেতু ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড নেই তাই কুলিং এ খুব বেশি ইন্টেক বা এক্সস্ট ভেন্টস নেই। এর ফ্যান কোর i7 8565U (4 core,8 thread) সিপিউ টিকে কুল রাখার জন্য যথেষ্ট। এটাতে SSD Slot একটাই। তাই বেশি স্টোরেজ লাগ্লে আপগ্রেড করার জন্য আগের SSD change করে বেশি ক্যাপাসিটির ssd লাগিয়ে নিতে হবে।
তবে র্যাম স্লট এ আশাহত করেনি, এখানে দুইটা র্যাম স্লট আছে যার মধ্যে একটিতে 8 GB DDR4 2400Mhz র্যাম লাগানো থাকে এবং একটি স্লট ফাকা আছে। আমার ইউনিট এ আমি একটা extra 16GB DDR4 ram লাগিয়ে নিয়েছি ফলে টোটাল 24GB র্যাম আছে এই সিস্টেমে (সর্বোচ্চ 64GB সাপোর্ট করে); স্লটের কথা বললে, ডান পাশে চারজিং পোর্ট, একটা Thunderbolt 3 port, Battery light indicator, one Docking connector, RJ 45 port, HDMI port, USB por, Input output Headphone jack port and a sim card slot.(যদিও আমার এই ইউনিট এ সিমকার্ড স্লট কোনভাবেই কাজ করাতে পারিনি); এবার বাম পাশের কথা বললে একটা কেংসিন্টন লক, একটা ইউএসবি পোর্ট, একটা স্মার্ট কার্ড রিডার। যদিও কি কার্ড রিড করবো সেটা ভাবার মতোন স্মার্ট হইনি।
এতে Bang & Olufsen এর স্টেরিও স্পিকার সিস্টেম রয়েছে। যা মোটামুটী লাউড তবে আহামরি কিছু না।
ডিভাইস্টি পুরোপুরি এক হাতে খোলা যায়না, ৫০% পর্যন্ত এক হাতে খোলা যায়, তারপর দুইহাত লাগবেই।
হিঞ্জ যথেষ্ট শক্তপোক্ত, ফু দিয়ে ফুস্ফুস হাপায়ে গেলেও ডিসপ্লে খুব একটা দুলেনা। তাই ফ্যানের বাতাসে ভয়ের কারণ নেই।
এই ল্যাপটপের সিকিউরিটি হিসেবে ডান দিকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও উইন্ডোজ হ্যালো ব্যবহার করে ফেসিয়াল রেকগনিশান আছে, যা খুবই ফাস্ট। এর ওয়েব ক্যামেরা কোয়ালিটি আর দশটা ল্যাপটপের ওয়েবক্যামের মতোই অবস্থা(চালিয়ে নেয়া যায় আর কি), তবে ক্যামেরা ঢেকে দেওয়ারও বিল্ট ইন ব্যাবস্থা আছে।
এর কিবোর্ড এ টাচপ্যাড এই দামের নতুন যেকোনো ল্যাপটপ থেকে অনেক গুনে ভালো এবং এতে ব্যাকলাইট আছে। কিবোর্ডের কি গুলো স্পেশিয়াস এবং যথেষ্ট ট্রাভেল আছে, ফাস্ট টাইপ করার জন্য সুইটেবল। তাই আপনার অনলাইন ঝগড়া গুলো তে সাথে সাথে রিপ্লে দিতে কোনো সমস্যা হবেনা। ফাংশন বাটন গুলোই সকল দরকারি শর্টকাট গুলো দেয়া আছে। টাচ প্যাড টাও গ্লাস সারফেস হওয়ার ফলে অনেক স্মুথ লাগে সবকিছু। উইন্ডোজ প্রিসিশন ড্রাইভার সাপোর্ট থাকায়, সকল জেসচার ঠিকঠাক ইনপুট নেয় এবং লেটেন্সিও কম।
এবার আসি ডিসপ্লের কথায়, এটি একটি 14 inch; 1920 x 1080 Pixels Full HD LED backlit IPS Anti Glare Display.Pixel Density 157 ppi. এতে কালার কভারেজ হিসেবে 94% of the sRGB কালার কভারেজ রয়েছে with an average delta E of 2.8। আমার মডেলের ডিসপ্লে এর ব্রাইটনেস 250 nits, তবে এর 400 nits এর ও একটা ভেরিয়েন্ট ও আছে। ঘরের ভেতর ব্যাবহারের জন্য এইটা যথেষ্ট ব্রাইট ছিলো। ডিসপ্লের ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল অনেক ভালো, যেহেতু আইপিএস ডিস্প্লে। এতে ইউএফও টেস্ট দিয়ে ঘোস্টীং এর দেখা মিলেছে মোটামুটি। প্যানেলে ওপরে ও নিচের দিকে ব্লিডীং আছে বুঝা যায়। তবুও এই দামের নতুন ল্যাপটপ গুলোর তুলোনায় ভালো পার্ফরম্যান্স দেখিয়েছে এই ডিস্প্লে।
এই বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হলো ব্যাটারি লাইফ, যেহেতু রিফারবিশড প্রোডাক্ট, তাই সবার প্রথম ভয় থাকে ব্যাটারি নিয়েই। 840 G6 এ রয়েছে 50 Wh,3-Cell ব্যাটারি। নতুন অবস্থায় এটা ১২ ঘন্টা ভিডিও প্লে ব্যাক সাপোর্ট দিলেও বর্তমান অবস্থায় এটার থেকে আমি ম্যাক্সিমাম ৩ ঘন্টা ফুল ব্রাইটনেস এবং ফুল সাউন্ডে ব্যাটারি ব্যাকাপ পেয়েছি। তবে ব্রাইটনেস এবং সাউন্ড এক্টূ কমায়ে ব্যবহার করলে ৪ ঘন্টার কাছাকাছিও যায়। এই ক্ষেত্রে নতুন ল্যাপটপ গুলোকেই আগায়ে রাখবো। যদি ব্যাটারি চেঞ্জ করতে পারেন তাহলে আরো ভালো ব্যাকাপ পাবেন আশা করি।
Performance Review
স্পেকস হিসেবে এটায় ইনটেল Whiskey Lake এর U-Series এর Core i7-8565U প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে 4 core and 8 threads রয়েছে। এর বেস ক্লক 1.90 Ghz এবং বুস্ট ক্লক 4.80 GHz ; তবে অল কোর ফুল লোডে প্রসেসর টী 2.2-2.4 GHz এর মধ্যেই থাকে। এর রেটেড TDP 15W এবং সর্বোচ্চ 25W পর্যন্ত নিতে পারে। এবার কিছু পারফরম্যান্স স্কোর দেখে নেওয়া যাক। সকল টেস্ট করা হয়েছে, লেটেস্ট বায়োস ও Windows 10 version 22H2 (OS Build 19045.5247) এ ।
একে Cinebench R20 দিয়ে টেস্ট করে আমরা অন এভারেজ Multicore এ 1134 and Single core এ 406 স্কোর পেয়েছি, রেফারেন্স হিসেবে Ryzen 7 1700x এর সিঙ্গেল কোর স্কোর 398.
Multicore
1st run | 2nd run | 3rd run | Average |
1123 | 1115 | 1166 | 1134.67 |
Single core
1st run | 2nd run | 3rd run | Average |
404 | 408 | 401 | 406 |
Real work scenario একটা টেস্ট করেছি যেখানে, 22seconds এ এটি একটি কম্প্রেসড 1.31GB ফাইল কে decompress করে 2.62GB করেছে using 7zip ;
Premiere pro তে একটা ২মিনিট ৪৭সেকেন্ড এর একটা ডকুমেন্টারি ভিডিও, সাথে হাল্কা খুব কম ইফেক্ট এবং পিকচারস অ্যাড করে ও ভয়েস ওভার দিয়ে একটা ভিডিও রেন্ডারিং করতে সময় লেগেছে ১মিনিট৮সেকেন্ড। তাই কলেজ বা ইউনিভার্সিটি র ছোট খাটো ভিডিও প্রজেক্ট এ কাজ চালিয়ে নেয়ার মতোন পারফরমেন্স এই ল্যাপটপ এ আছে।
যদিও এটি গেমিং ফোকাসড ল্যাপটপ না,এতে Integreted Intel UHD 620 রয়েছে । কিছু গেম দিয়ে এর পারফরম্যান্স টেস্ট করা যাক। বলা ত যায়না, হুটহাট গেম খেলতে ইচ্ছে করলে কি করবেন? একটু খেলতে পারলে ভালোই লাগে। প্রথমে চেক করবো GTA V
1080p settings এ
Average 20.7 FPS
1% low 12.7 FPS
0.1% low 5.7 FPS
720p Low Settings এ
Average 28.4 FPS
1% low 14.0 FPS
0.1% low 13.0 FPS
Rocket League – 1600×900 High settings
Average 28.4 FPS
1% low 10.7 FPS
0.1% low 9.0 FPS
আরো কিছু গেমস এর এভারেজ এফপিএসঃ
PUBG – 26fps at 1080p low
Fortnite – 60+ at 1080p low
CS GO – 50fps at 1080p low
Sound and Temperature:
All-core লোডে সাউন্ড 50db average থাকে। যা নরমালই মোটামুটি এবং ঘরের নরমাল ambient noise এর সমপর্যায়ে। সিঙ্গেল কোর লোডে সর্বোচ্চ 82c হিট করে এবং All core load এ প্রথমে 98c ছুলেও আবারো Thermal Trottle করে 75-78c তে নেমে স্টেবল হয়। CoreTemp দিয়ে সর্বোচ্চ 18watt পর্যন্ত ইউজ হতে দেখেছি। থারমাল থ্রটলের কারণে এর বেশি পাওয়ার ইউজ করতে পারেনা।
Conclusion
আচ্ছা তাহলে একটা conclusion এ আসা যাক। ৩০-৪০ হাজার টাকা বাজেটে অনেকেই ল্যাপটপ খুঁজেন। আমরা তাদের যতই বলি এই দামে পিসি নেও বেটার অপশন, তাদের পোর্টেবিলিটি ও যাতায়াতের সুবিধার জন্য ল্যাপটপ ই দরকার। তাদের জন্য মার্কেটে থাকা নতুন অপশন গুলো খুব একটা ভালো ভ্যালু দেয় না, বেশিরভাগই Celeron or athleon সিরিজের সিপিইউ ব্যবহার করে। এগুলোর ডিসপ্লেও তেমন ভালো কোয়ালিটির না। স্পিকার, কিবোর্ড, ট্রাকপ্যাড কোনও প্রিমিয়াম ফিল তোহ দেয়ই না, বরং কোনও মনে কাজ চালিয়ে নিতে হয়। তবে নতুন ল্যাপটপ হওয়ায় ব্যাটারি ব্যাকআপ, ওয়ারেন্টি সাপোর্ট, সফটওয়্যার সাপোর্ট আগামী কয়েকবছর পর্যন্ত পাবেন, যা অনেকের কাছেই খুব গুরুত্বপূর্ণ।
Refurbished laptop মডেল গুলোর ওয়ারেন্টি সাপোর্ট, মিডিয়াম টু লো ব্যাটারি সাপোর্ট ইগনোর করতে পারলে বা ব্যাটারি রিপ্লেসমেন্ট করে নিতে পারলে ওভারল বেটার অপশন। এখন সিদ্ধান্ত আপনার উপরে, আপনার প্রায়রিটি কোনটি!
আজকে এ পর্যন্তই, দেখা হবে পরবর্তী রিভিউ এ।