চীনা চ্যাটবটের উত্থান: অ্যাপ স্টোরে বিপ্লব, এনভিডিয়ার শেয়ারে ধাক্কা! (The Rise of a Chinese Chatbot: Deepseek ai)
প্রযুক্তি বিশ্বে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটল এই সপ্তাহে। চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপ “ডিপসিক” তৈরি করা একটি চ্যাটবট মার্কিন অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের শীর্ষস্থান দখল করেছে, এমনকি ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটিকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। এই খবরটি শুধু প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যেই আলোড়ন ফেলেনি, বরং আর্থিক বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
Deepseek ai এর এই সাফল্যের মূল কারণ তাদের নিজস্ব ওপেন-সোর্স মডেল, যা কোম্পানিটির দাবি অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মডেলগুলোর তুলনায় অনেক কম খরচে এবং অনেক কম চিপ ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। এই দাবির ফলে আর্থিক বাজারে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, এবং সব থেকে বড় আঘাত টা পেয়েছে এনভিডিয়া। যেখানে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম প্রি-মার্কেট ট্রেডিংয়ে ১২ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

গত ২০শে জানুয়ারি ডিপসিক তাদের নতুন “আর১” রিজনিং মডেল প্রকাশ করে, যা জটিল সমস্যা সমাধানে পারদর্শী এবং কিছু ক্ষেত্রে ওপেনএআই-এর “ও১”-এর মতোই কাজ করে বলে জানা গেছে। এই “আর১” তৈরি করা হয়েছে ডিসেম্বরে প্রকাশিত ডিপসিকের “ভি৩” এলএলএম-এর উপর ভিত্তি করে। কোম্পানিটির দাবি, এই “ভি৩”, জিটিপি-৪ও এবং অ্যানথ্রোপিকের ক্লড ৩.৫ সনেটের সমতুল্য, এবং এটি তৈরি করতে ৬ মিলিয়ন ডলারের কম খরচ হয়েছে। অন্যদিকে, ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন যে জিটিপি-৪ প্রশিক্ষণে ১০০ মিলিয়নের বেশি ডলার খরচ হয়েছে। এই বিশাল পার্থক্য বিনিয়োগকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিপসিক “ভি৩” প্রশিক্ষণ করতে এনভিডিয়ার প্রায় ২০০০ বিশেষায়িত চিপ ব্যবহার করেছে, যেখানে অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মডেল প্রশিক্ষণে ১৬,০০০ বা তার বেশি চিপ প্রয়োজন হয়। এই যাচাই না হওয়া দাবি ডেভেলপার এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি প্রশ্ন তৈরি করেছে: বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলো যে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহার করছে, তা কি সত্যিই প্রয়োজনীয়? যদি ডিপসিকের দাবি সত্যি হয়, তাহলে এর অর্থ হলো ডিপসিকের প্রকৌশলীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এআই আধিপত্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মুখেও বেশ দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন।
এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, ওপেনএআই এবং মেটা এআই ডেটা সেন্টারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে – শুধুমাত্র স্টারগেট প্রকল্পের জন্যই ৫০০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার এনভিডিয়ার জন্য ধরা হয়েছে বলে মনে করা হয়। বিনিয়োগকারী এবং বিশ্লেষকরা এখন ভাবছেন যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কি সত্যিই সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে? ডিপসিকের কম খরচের সাফল্যের পর, এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট এবং অন্যান্য কোম্পানি, যাদের এআই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অংশীদারিত্ব রয়েছে, তাদের সকলের শেয়ারের দাম প্রি-মার্কেট ট্রেডিংয়ে নিম্নমুখী দেখা যাচ্ছে।
ডিপসিকের এই অভাবনীয় সাফল্য এআই বিশ্বে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কম খরচে এবং কম কম্পিউটিং পাওয়ার ব্যবহার করে যদি ভালো ফল পাওয়া যায়, তাহলে কেন অন্যান্য কোম্পানিগুলো এত বেশি খরচ করছে? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো খুব শীঘ্রই পাওয়া যাবে, তবে ডিপসিকের উত্থান নিশ্চিতভাবেই এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। এই চীনা স্টার্টআপের সাফল্য প্রমাণ করে যে, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চমক দেখানো সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন খেলোয়াড় এআইয়ের এই দৌড়ে কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে। তবে, ডিপসিকের এই চমকপ্রদ উত্থান প্রযুক্তি বিশ্বে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা সম্ভবত এআই খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।
Deepseek ai সহ টেকনোলোজি সম্পৃক্ত আরো নিউজ পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিসিট করুন।